ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ , ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে ফায়ার সার্ভিসের তেল কেলেঙ্কারি, ৫ কর্মী প্রত্যাহার রাসিকের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ে চারটি দপ্তর সংস্থার প্রধানগণের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অ্যাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীদের আইনি মর্যাদা পুনর্বহালের নির্দেশ আদালতের নিউ ইয়র্কে উইন রোজারিও হত্যা: দুই বছর পরও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার নিউ ইয়র্কে নির্বিচার গুলিতে ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু, শোকস্তব্ধ পরিবার ডাক্তারদের ভিজিট ফি বাড়ায় রাজশাহীতে চিকিৎসা সংকট তীব্র যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় গর্ভবতী কিশোরীর মৃত্যু, বহিষ্কারের মুখে ভারতীয় নাগরিক রাজশাহী নগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই; রাসিক প্রশাসক রাজশাহী জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসককে রূপালী ব্যাংকের ফুলেল শুভেচ্ছা রাজশাহীর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও এসকাফ সিরাপ জব্দ চট্টগ্রামে মাকে গলা কেটে হত্যা: পলাতক ছেলে ও পুত্রবধূ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে ডিএনসির অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫ নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার -১১ মান্দায় মোবাইল কোর্টে পরিচালনা গাঁজা সহ আটক এক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজশাহী সিটি ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে লিটারারি ফেস্টিভ্যালের শুভারম্ভ হতে যাচ্ছে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারকরণের রাসিকের ওয়ার্ড সচিবদের সভা অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে চলন্ত বাস থেকে পড়ে হেলপারের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে গুলিতে তরুণ দম্পতির মৃত্যু

হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড কে এই ‘শাহীন চেয়ারম্যান’?

  • আপলোড সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:৩৫:১১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:৩৫:১১ অপরাহ্ন
হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড কে এই ‘শাহীন চেয়ারম্যান’? ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারিগরদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পেছনে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ ও অস্ত্র-দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

এ ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি। যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

কে এই শাহীন?
শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই তিনি সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি প্রশাসন শাহীনকে সমীহ করেও চলতো। 

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে সেখানে আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে তিনি আবারও খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। 

তদন্তে জানা গেছে, শাহীন আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সব দিক বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আশা করি, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে ফায়ার সার্ভিসের তেল কেলেঙ্কারি, ৫ কর্মী প্রত্যাহার

রাজশাহীতে ফায়ার সার্ভিসের তেল কেলেঙ্কারি, ৫ কর্মী প্রত্যাহার